চিংড়ি পটলের দোরমা - রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি রেসিপি চিংড়ি পটলের দোরমা।
এই রেসিপিটি আমি আমার ছোটবেলাতে প্রথমবার আমার জেঠুর মেয়ে অর্থাৎ আমার বর দিদির কাছে খেয়েছিলাম। ও ছোটবেলা থেকে রান্না করতে পারতই না। তবে বিয়ের পর কোথা থেকে যে এত ভালোভাবে রান্না করা শিখলো। ভগবান জানে। বেশ অনেক বছর আগের কথা, ওর শ্বশুর বাড়িতে ওর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম যেদিন। ও আমাকে রান্না করে খাইয়ে ছিল এটা।। আর আমার এতটাই ভালো লেগেছিল যে আমার খুব ইচ্ছা ছিল আমি নিজেও বাড়িতে এই রান্না ট্রাই করবো।
এরপরেও আমার জেঠিমার হাতে আমি এই রান্না একবার খেয়েছিলাম। জেঠিমা ও অনেক সুন্দর রান্না করেছিল। সময় হবে হবে করে, সময় হতো না বলে এই রান্না করার সুযোগ হয়নি। তবে সেদিন কে আমি ভেবে নিয়েছিলাম এই রেসিপিটা একবার ট্রাই করবো।। সকালবেলায় বাবা বাজার থেকে পটল কিনে নিয়ে এসেছিল অনেকগুলো। চিংড়ি মাছ ছিল বাড়িতেই। তাই বিকেল বেলার দিকে এই রেসিপি ট্রাই করি। একেবারে নিজের জীবনে প্রথমবার এই রেসিপি আমি রান্না করেছি।।
প্রথমবার রেসিপি ট্রাই করছি আর আপনাদের সাথে শেয়ার করব না সেটা তো হতে পারে না।, এ কারণে আপনাদের জন্য ছবি তুলে রেখেছিলাম। চলুন তাহলে রেসিপিটা শেয়ার করে নেওয়া যাক। রেসিপি শুরু করার আগে শেয়ার করে দিচ্ছি উপকরণগুলো।
নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
---|---|---|
১ | পটল | ১৩ টা |
২ | চিংড়ি মাছ | ৩০০ গ্রাম |
৩ | নুন | পরিমাণ মতো |
৪ | হলুদ | পরিমাণ মত |
৫ | চিনি | পরিমাণ মতো |
৬ | জিরে গুঁড়ো | পরিমাণ মতো |
৭ | ধনে গুঁড়ো | পরিমাণ মতো |
৮ | পেঁয়াজ কুচি | চারটে পেয়াঁজ |
৯ | আদা কুচি | পরিমাণ মতো |
১০ | রসুন বাটা | পরিমাণ মতো |
১১ | লঙ্কা কুচি | ৮ টা লঙ্কা সব মিলিয়ে |
১২ | টমেটো | একটা |
১৩ | পোস্ত,রসুন,কাজু বাটা | পরিমাণ মতো |
১৪ | শুকনো লঙ্কা | একটা |
১৫ | তেজপাতা | দুটো |
১৬ | এলাচ, লবঙ্গ ,দারচিনি | পরিমাণ মতো |
১
মোটামুটি ১৩ টা পটল নিয়ে নিয়েছিলাম। আর সবকটা পটল কে এভাবে হালকা করে স্কিনটা ছিলে নিয়ে, পটলের মাথার দিকটা অল্প করে কেটে নিচ্ছি। যেভাবে আপনারা ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন।
২
এবার আলু ছেলার ওই চাকুর সাহায্যের ঠিক ছবিতে আমি যেমন ভাবে দেখাচ্ছি চাকুটাকে পটলের মধ্যে ঢুকিয়ে, পটল থেকে ভেতরের বীজগুলো এবং কোয়া গুলো বার করে নেব।। প্রত্যেকটা পটলের ক্ষেত্রেই তাই করব।।
৩
এবার পটলটা কে মনের হলুদ মাখিয়ে ভালো করে অল্প তেলে ভেজে নেব। ভাজাটা খুব জোর দুই থেকে তিন মিনিটের জন্য হবে। অতিরিক্ত ভাজবো না।
ভাজার পরে কেমন দেখতে লাগছে আপনারা বুঝতেই পারছেন।
৪
এবারে পটলের ভেতর থেকে যেগুলো বার করে নিয়েছিলাম, তার মধ্যে সামান্য পরিমাণ জল দিয়ে মিক্সচার গ্রেইন্ডার এ একটা পেস্ট বানিয়ে নেব। এবং এটা পরবর্তীতে কাজে লাগবে।।
পুর তৈরীর পদ্ধতি |
---|
৫
এবারে ওই একই তেলের মধ্যে সামান্য আরেকটু তেল দিয়ে দেব। আমি সবকিছুতেই সাদা তেল ব্যবহার করেছি। তারপর তেল গরম হয়ে গেলে কুচিকুচি করে কেটে রাখা পেঁয়াজ, আদা রসুন এর পেস্ট , কাঁচা লঙ্কা কুচি ভালোভাবে ভেজে নেব।
৬
এবারে এর মধ্যে অ্যাড করে দেব সামান্য পরিমাণ চিনি। এই সময় চিনি দিলে রান্নার রং যেমন আসবে, খেতেও স্বাদ হবে।। তার সাথে এড করে দেব হলুদ, নুন পরিমাণ মতো । আর কেটে রাখা একটা টমেটোর হাফ পরিমাণ। তারপর আবার ভালোভাবে খুন্তির সাহায্যে নেড়ে চেড়ে নেব। এই সময় গ্যাসের আঁচ মিডিয়াম থাকবে।
৭
এবার অ্যাড করে দেবো পরিমাণ মতন ধনের আর জিরে গুঁড়ো। তারপর আবার ভালোভাবে মিশিয়ে খুন্তি দিয়ে নাড়াচাড়া করে নেব।
৮
মসলাগুলো ভালো করে কষিয়ে নেওয়ার পর এর মধ্যে এবার এড করে দেব চিঁড়ি মাছ। এই চিংড়ি মাছ ৩০০ গ্রাম আমি ব্যবহার করেছি। আপনারা ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছেন মাছের খোলা ছাড়িয়ে একেবারে ছোট ছোট পিস করে কেটে নেয়া রয়েছে। মাছটাকে দিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে মাছটাকে ওই মসলার সাথে ভালোভাবে ভেজে নিতে হবে। প্রায় দু থেকে তিন মিনিট।
৯
এবারের মধ্যে অ্যাড করে দেব পটলের ভেতর থেকে যেটা বার করে পেস্ট করে রেখেছিলাম সেটা। আর তারপর আঁচটা আরেকটু বাড়িয়ে দিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকবো ক্রমাগত। যতক্ষণ না জলটা শুকিয়ে আসছে। পটলের ওই অংশগুলো পেস্ট করার পর অনেকটাই জল বেরিয়েছে। সেই কারণে জলটাকে শুকানোর প্রয়োজন আছে।
১০
আর এভাবেই আমাদের পটলের ভেতরের পুর রেডি হয়ে যাবে। রেডি হয়ে যাওয়ার পর একটা থালায় বিছিয়ে রাখবো ঠান্ডা হওয়ার জন্য।
১১.
পটলগুলো আগে থেকেই ভাজা ছিল। পুর রেডি হয়ে গেছে। এবার পুর পটলের ভেতরে এক এক করে ঢুকিয়ে নেব। এখানে আমার বাবা কিছুটা সাহায্য করেছে।। কারণ আমি বাকি রান্নার প্রসেসে ব্যস্ত ছিলাম।
১২.
কড়াইয়ে এই সামান্য তেল গরম করে রাতে দিয়ে দেবো শুকনো লঙ্কা একটা, এলাচ, লবঙ্গ,দারচিনি, তেজপাতা। এক দুই সেকেন্ড নাড়াচাড়া করার পর। তাতে দিয়ে দিচ্ছি আদা কুচি, পেঁয়াজ কুচি। আর সামান্য চিনি। আবার ভালোভাবে মশলাটাকে ভেজে নেব।
১৩.
এর মধ্যে দিয়ে দিচ্ছি কাঁচা লঙ্কা আর টমেটো পরিমাণ মতো।
১৪.
এবার দিয়ে দিচ্ছি বেটে রাখা পোস্ত ,কাজু আর রসুন বাটা। সাথেই দিচ্ছি নুন, হলুদ,জিরে, ধনে গুঁড়ো আর সামান্য শুকনো লঙ্কার গুঁড়ো।
১৫.
এইবার যখন মসলা কিছুটা কষানো হয়ে যাবে অল্প অল্প করে জল দেওয়া শুরু করব আর কষাতে থাকবো।
১৬.
এইভাবে অল্প অল্প জল দিয়ে কষাতে থাকতে হবে মসলাটা। মসলাগুলো কসানো হয়ে গেলে ঠিক এরকম দেখতে লাগবে। এরপরে পরবর্তী ধাপে যাব।
১৭.
এবারে পুর ভর্তি পটল আস্তে আস্তে সাজিয়ে দেব। আর তারপর আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন আমি পরিমাণ মতন জল দিয়ে দিয়েছি। এবার জল দেবার পর ঢাকনা দিয়ে ঢেকে লো থেকে মিডিয়াম ফ্লেম রেখে আস্তে আস্তে পটলগুলোকে সিদ্ধ করে দেবো।। এতে করে ঝোলটাও শুকিয়ে একটা সুন্দর গ্রেভি তৈরি হবে।
রেডি
আর এই ভাবেই এত সুন্দর একটা রেসিপি তৈরি হয়ে গেল।। এবার কিছু কথা বলি। এই রেসিপিটাতে একটা খুব সাংঘাতিক জিনিস মিস গেছে। আপনারা যারা রান্না করেন। তারা হয়তো এতক্ষণে ধরে ফেলেছেন, আর সেটা হল নারকেল কোঁড়া। এই রেসিপিতে নারকেল একটা বিরাট ভূমিকা পালন করে। অনেকটা খিচুড়ি রান্নার শেষে সামান্য ঘি দিয়ে দিলে যেমন হয়,সেরকম। কিন্তু খুব দুঃখবশত সেদিন কি আমাদের বাড়িতে নারকেল ছিল না বলেই আমি সেটা এড করতে পারিনি।
নারকেল ছাড়াই রেসিপিটা এত দুর্দান্ত হয়েছিল খেতে। আমি তো ভেবেই বুঝতে পারছিলাম যে নারকেল দিলে রেসিপিটা আরো কত ভালো হতো।। পরবর্তীতে আগে নারকেল বাড়িতে কিনে এনে তারপর এই রেসিপিতে হাত দেব। তবে এইভাবে রান্না করে আপনারাও দেখতে পারেন। অসাধারণ খেতে হবে। গরম গরম সার্ভ করুন রুটির সাথে অথবা ভাতের সাথে। এটা এমন ধরনের যে সবকিছুর সাথে খেতে ভালো লাগে। এমন কি শুধু শুধু খেতেও ভালো লাগে।
Your post has been supported by SC-05. We support quality posts, quality comments anywhere, and any tags