বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে নারায়ণ পুজোর বাজার
নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি পুজোর বাজারের মেন পোরশন। পুজোর আগের কেনাকাটার প্রচুর গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি। কিন্তু পুজোর দিন পুজো করতে যা যা লাগে, সেই কেনাকাটার একটা কিন্তু বিরাট বড় ধকল থাকে। যেহেতু ওই গৃহপ্রবেশের মতন করেই পুজো, তাই ঠাকুর মশাই যা ফর্দ ধরিয়ে দিয়েছিল, সেসব জিনিসপত্র কিনতে কিনতে হাঁপিয়ে গিয়েছিলাম।
এর সাথেই লোকজন খাবে ।এই কারণে তাদের মুদিখানার বাজার করারও একটা চাপ ছিল। সবকিছু শুরুর আগেই মা আর বাবার সাথে বসে প্রথমেই একটা লিস্ট বানিয়ে নিয়েছিলাম ।লিস্ট তিনটে টোটাল বানানো হয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যে দুটো লিস্টের ছবি আমার কাছে আছে। বাকি একটা লিস্ট এর ছবি আমি কিছুতেই খুঁজে পেলাম না ।একটা লিস্টে আপনারা দেখতে পারবেন লোকজনের একটা কাউন্টিং করা হচ্ছে, মোটামুটি ১২৮ জন। আর একটা লিস্ট এ দেখতে পাবেন মুদিখানার বাজারের কথা আর সবজি বাজারের কথা উল্লেখ আছে।
তবে পুজোর জিনিসপত্রের বাজার এর যেটা লিস্ট ছিল ,সেটা ছবি তুলতে আমি ভুলে গিয়ে। আসলে এত কিছু চাপের মধ্যে মাথা থেকে ওটা আউট হয়ে গেছে । তবে ঠাকুরমশাই যে লিস্ট বানিয়ে দিয়েছিল, সেই লিস্টটার ছবি আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।সেটা ধরেই কেনাকাটা হয়েছে।
যাক গে, এই বাজার করা একদিনে মোটেই কমপ্লিট হয়নি। মোটামুটি দুদিন ধরে বাজার করতে হয়েছে। প্রথম কথা পূজোর বাজার সমস্তটাই আমি করেছি ।আর দ্বিতীয়ত সবজি বাজার থেকে মুদিখানার বাজার আমার বাবা করেছে। দুটো ক্ষেত্রেই আমার সাথে বাবা লোক দিয়ে দিয়েছিল ।আর নিজে যখন বাজার করতে গিয়েছিল ,তখনও একজনকে সাথে করে নিয়ে গিয়েছিল।
প্রথম দিন আমাদেরই এক কাকার সাথে বাজারে চলে গিয়েছিলাম ।বাজার বলতে কৃষ্ণনগরের সবথেকে পুরনো বাজার গোয়ারী বাজার। এই বাজারের কথা আপনারা প্রচুর বার আমার পোস্টে পেয়েছেন। বাজারে ঢুকেই প্রথমে চলে গিয়েছিলাম ঘি এর দোকানে ঘি কিনতে ।যেহেতু হোম যজ্ঞ হবে। ঘি অনেকটা পরিমাণ লাগবে। ওই দোকানে বেশ ভালো মিল্ক কেক বানায়। সেটাও খেলাম আর বাড়ির জন্য নিলাম।
তারপরে চলে গিয়েছিলাম দশকর্মার দোকানে। সমস্ত কিছু বসে থেকে কিনেছি। বুদ্ধ পূর্ণিমার উপলক্ষে নারায়ণ ঠাকুরের যাবতীয় জিনিসপত্র কেনা হয়েছে। তারপরে কেনা হয়েছিল ঠাকুরমশাইয়ের জন্য বস্ত্র ,একটা ধুতি ,গামছা। আরো কত কিছু।
বলতে গেলে প্রথম দিন যতটা শুকনো বাজার করা যায়, সমস্ত কিছু করে রেখেছিলাম ।নারকেল থেকে শুরু করে ডাব যাবতীয় সবকিছু। সেদিন ছিল ৯ তারিখ আর তারপরে যেদিন বাজার করতে গিয়েছিলাম, সেদিন ছিল ১১ তারিখ অর্থাৎ পূজোর আগের দিন।
পুজোর আগের দিন বাজার করা মানেই বুঝতে পারছেন, সেদিনকে ফুল থেকে শুরু করে ফল সমস্ত কিছুই কিনেছি। আসলে দু-তিন দিন আগে থেকে কিনে রাখলে স্বাভাবিকভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। মে মাসের দিকে যে পরিমাণ গরম থাকে, আপনারা নিজেরাই জানেন। মে মাসের ১২ তারিখে পুজো ছিল ,তাই দু-তিন দিন ধরে বাজার করা চলছিল।
আমি তো পূজোর বাজার কমপ্লিট করে ফেলেছিলাম। তবে ফেরার পথে খালি হাতে ফিরে আসেনি, নিজের জন্য ছোট্ট একটা কেক নিয়ে এসেছিলাম খাব বলে বাড়িতে। । গোয়ারি বাজার থেকে বেরিয়ে কিছুটা দূর গেলেই ক্রিমজ এর একটা আউটলেট রয়েছে। সেখান থেকে ছোটখাটো একটা ৯০ টাকা দামের কেক নিয়েছিলাম , বেনটো টাইপের। এখন এই বেনটো কেক খুব ট্রেন্ডে রয়েছে।
যাক গে, আমার মোটামুটি বাজার এর ভঙ্গিমা আপনারা আমার পোস্ট দেখেই বুঝতে পারলেন। তবে পুজোর বাজার করতে আমার বেশ মজা লাগে। বাড়িতে প্রত্যেক মাসে এতগুলো পুজো হয় যে, আমার এগুলো পুরো একটা অভ্যাস হয়ে গেছে। মা না বলে দিলেও অথবা লিস্টে না থাকলেও মনে করে করে ঠিক কিনে নিই সবকিছু।
আমার এদিকে পুজোর বাজারের সাথে সাথে বাবা পুজোর আগের দিন সমস্ত রকম মুদিখানা আর সবজি বাজার করে রেখেছিল। তবে টাটকা কাঁচা সবজিগুলো সকাল বেলায় কিনেছে পুজোর দিনকে। সমস্ত লিস্ট আপনাদের সামনে আমি শেয়ার করেছি আজকে। আজ এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকুন।