মা এর সাথে কেনাকাটা আর ঘোরাঘুরি

in Incredible India3 days ago

নমস্কার বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন ।আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি মায়ের সাথে কেনাকাটা করতে যাওয়ার কিছু মুহূর্ত। এই সময় টা ছিল মোটামুটি শ্রাবণ মাসের আগে। শ্রাবণ মাস পড়ার কিছুদিন আগে মায়ের সাথে আমি একবার মার্কেটের দিকে বেরিয়ে ছিলাম কিছু কাজের জন্য।

20250716_083109.jpg

প্রথমে চলে গিয়েছিলাম মাকে নিয়ে সোনার দোকানে। আসলে মায়ের একটা পলা বাঁধানো ছিল, যেটা মা সব সময় হাতে পড়ে থাকতো, সেই পলা বাঁধানো নষ্ট হয়ে গেছে পলা ভেঙে যাওয়াতে ।এদিকে সোনার পাত রয়েই গেছে । এ কারণে মা একটা নতুন কিনতে চাইছিল। এবার কিনতে হলে অতিরিক্ত টাকা পয়সা যে দিতে হবে, তাও নয়। কারণ পুরনো টা চেঞ্জ করে মা কিনবে।

এ কারণেই প্রথমে আমরা চলে গিয়েছিলাম যেখান থেকে আমরা বেশিরভাগ সময় সোনা কিনে থাকি অর্থাৎ আধুনিক জুয়েলার্সে ।ওখানে গিয়ে অনেকক্ষণ দেখার পরে মায়ের একটা পলা পছন্দ হলো। ডিজাইনটা খুব সুন্দর হওয়াতে মা ওটাই নিয়ে নিল। মোটামুটি তিরিশ হাজারের ওপর দাম পড়েছে । তবে এক্সট্রা দিতে হয়নি।

20250719_194601.jpg

পলা বাঁধানো নিতে বেশ টাইম লাগলো কারণ, ওরা পলার উপর সোনার পাত টা পেস্টিং করে দিল। তারপর আমরা বিলিং সেকশনে বিল করে বেরিয়ে সোজা সান্যাল মার্কেটের দিকে চলে আসলাম।। ওই মার্কেটে সমস্ত রকম মেয়েদের সাজের জিনিস পাওয়া যায়। চুড়ি,গলার হার কানের দুল থেকে শুরু করে নেলপলিশ, বিভিন্ন রকম মেকআপের প্রোডাক্ট, চুল বাধার বিভিন্ন রকম জিনিস ইত্যাদি।

20250719_194550.jpg

শ্রাবণ মাস আসলেই এখন মানুষের খুব ধুম পড়েছে সবুজ চুড়ি পড়ার । আমার মাকেও একজন সবুজ চুড়ি গিফট করেছে। সবার হাতে হাতে শ্রাবণ মাসে সবুজ চুড়ি দেখতে পাওয়া যায় ।তবে কাচের চুড়ি মা ঠিক পড়তে পছন্দ করে না। কারণ কাচের চুড়ি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর মায়েদের কাজের হাত, কাচের চুড়ি অত পড়াও যায় না।

20250719_194706.jpg

এ কারণে মা চাইছিল প্লাস্টিকের কিন্তু কাজ করা সুন্দর চুড়ি। মার্কেটের ভিতরে ঢুকেছিলাম সেই খুঁজতেই। অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্লাস্টিকের চুড়িগুলো পছন্দ হলো। মা দু পিস চুরি নিল ।আসলে এক একটা চুরির দাম ওরা ৪০ টাকা করে বলছিল। প্লাস্টিকের ,তাই ভাঙার সম্ভাবনাও নেই। আর দেখতেও বেশ সুন্দর ছিল।

20250719_194552.jpg

ওখান থেকে বের হয়ে আমরা চলে গেলাম গোপাল ঠাকুরের জন্য কিছু জামা কিনতে। যাওয়ার পথেই একটা আইসক্রিমের বাক্স নিয়ে একটা কাকু বিক্রি করে।। অর্থাৎ উনার কাছে কুলফি টাইপের আইসক্রিম পাওয়া যায়।

ওনার আইসক্রিমের বাক্সের গায়ে লেখা আছে ক্ষীরের কুলফি। ওনার এই কুলফি টা এতটা ভাল খেতে হয় যে ,যখনই উনি আমাদের মার্কেটে এসে হাজির হন। উনার আসার সাথে সাথে চারিপাশে মানুষজনের ভিড় জমে যায়।

20250719_195022.jpg

ঠিক বিকেল পাঁচটা বাজলেই কাকু সাইকেলের পেছনে করে ওই কুলফির বাক্স নিয়ে এসে প্রত্যেকদিন এই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে কুলফি বিক্রি করেন। আমি এই কুলফি এর আগে কখনো খাইনি। তবে একদিন আমার পার্টনারের মায়ের সাথে কেনাকাটা করতে করতে ওনার কুলফি প্রথম ট্রাই করি ।

20250719_195456.jpg

তারপর থেকে আর অন্য আইসক্রিম খেতে ইচ্ছা করে না। ক্ষীরের তৈরি কুলফি অস্বাভাবিক ভালো খেতে। দুধের ক্ষীর খুব ভালোভাবে বোঝা যায় খাওয়ার সময়। দুধের সর মুখে বাঁধে। তবে দাম কিন্তু বেশি না। ১০ টাকা,১৫ টাকা ,কুড়ি টাকা। এবার যে ,যে টাকার খাবে। আমি আর মা একটা করে কুলফি খেয়ে নিলাম, আর খেতে খেতেই দেখি লোকজনে ভিড় জমিয়ে দিয়েছে।

1000295226.jpg

কাকুর ওখানে দাঁড়িয়ে থেকে বিকেলবেলায় বেশ ভালই ইনকাম হয়। এই কুলফিটাকে দেখে নিজের ছোটবেলাকার কথা খুব মনে পড়ে ।ছোটবেলায় এরকম টাইপের কুলফি মামার বাড়িতে খুব বিক্রি হতো। এমনকি আমাদের বাড়ির পাড়ার ভেতর দিয়েও এক ধরনের কুলফি আইসক্রিম যেত। ছোটবেলায় এই ধরনের আইস্ক্রিমগুলো কত খেয়ে আমরা বড় হয়েছি।

আর এখন কত কত টাকা দিয়ে আইসক্রিম কিনে খাই সবাই। তবে যতই অন্যান্য আইসক্রিমের দাম বেশি হোক না কেন , কাকুর তৈরি এই ক্ষীরের কুলফির স্বাদটা মুখে লেগে থাকার মত।

কুলফি খাওয়া শেষ হয়ে গেলে গোপালের জন্য ছটা মত জামা কিনে নিলাম। আমাদের গোপালটা তো জিরো সাইজ ।তাই ওর বড় সাইজের জামাও লাগে না।

20250719_200620.jpg

আর জামা গুলোর দাম 10 টাকা করে। সমস্ত কাজ হয়ে যাওয়ার পর ফিরে আসার সময় মীও আমর থেকে আমার পছন্দের একটি ব্রাউনি আর ঈশানের জন্য চিকেন সিক্সটি ফাইভ নিয়ে টোটো তে উঠলাম। আর বাড়ির দিকে রওনা হলাম।
আজকে এখানেই শেষ করছি ।সকলে ভালো থাকুন।

Sort:  
Loading...
Loading...
 2 days ago 

আমি তো ওনার কুলফির বড়ো ফ্যান। শ্বশুর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ওনার ওখান থেকে আমরা কুলফি না খেয়ে ফিরি না। খুব ভালো খেতে হয়।

আর কাকিমার পলা বাঁধানো গুলো খুব সুন্দর হয়েছে।