চারা থেকে বৃক্ষ! Seedling to trees!

(সম্পার দেওয়া লেবু থেকে বীজ বপন করে চারা বেরিয়েছে!- সম্পা খানিক সন্দিহান ছিল অবশ্য, চারা হওয়া নিয়ে) |
---|
আমার ঘরে বেশকিছু টবে বিভিন্ন লেবু গাছের বীজ বপন করেছিলাম, এর মধ্যে গন্ধরাজ, মৌসম্বি এবং পাতিলেবু গাছের বীজ মূলত বপন করেছিলাম।
আচ্ছা! এরমধ্যে, সম্পা আমাকে ওদের বাড়িতে থাকা পাতিলেবু এনে দিয়েছিল, সেগুলোর বীজ আমি বপন করেছিলাম এবং তার থেকে চারা বেরিয়েছে যেগুলো আপনাদের সাথে ছবির মাধ্যমে ভাগ করে নিচ্ছি।
যেহেতু আমার ফ্ল্যাটে কোনো ব্যালকনি নেই, কাজেই কয়েকদিন ধরে মনটা খারাপ লাগছিল এই ভেবে গাছগুলোর পরিণতি কি হবে?
দেখুন জীবনের প্রতি ক্ষেত্রেই চারা গাছের মতো শৈশবের শিক্ষা এবং পরিবেশ থেকে পাওয়া মানসিকতা থেকে যেমন একটি মানুষের আগামী দিনের মন মানসিকতা তৈরি হয়, ঠিক তেমনি একটি গাছের শৈশব থেকে পাওয়া যত্নের উপরে সে আদপেও বৃক্ষে পরিণত হবে কিনা সেটা নির্ভর করে।
জীবনের যাত্রার মতই গাছেদের প্রাণ আছে কাজেই উভয়ের জীবনের সংঘর্ষ এবং সফলতা নির্ভর করে কোন মানসিকতা (মানুষের ক্ষেত্রে) নিয়ে এবং কোন আবহাওয়ায় (গাছের ক্ষেত্রে) এরা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মানুষের অভিব্যক্তি তারা ভাষায় প্রকাশ করতে পারে, এই যেমন ধরুন আমি লেখার মাধ্যমে করছি, তেমনি জানলে অবাক হবেন, আমিও হয়েছিলাম বিষয়টি জেনে!
সেটা হলো গাছের প্রাণ তো আছেই, পাশাপশি তারা শুনতে এবং একটি বিষয় চল্লিশ দিন মনে রাখতে সক্ষম!
কি জানতেন এর আগে বিষয়টি? মন্তব্যের মাধ্যমে জানতে ভুলবেন না, যদি লেখাটি পড়ে থাকেন!
কাজেই, আপনার অনুভূতি ইউনিভার্স শোনে, ইচ্ছুক থাকলে বিষয়টি সম্পর্কে পড়তে পারেন, অনেক বই তথা অনলাইন থেকেও জানতে পারেন।
এখন এই বিষয়টি কেনো আজকের লেখায় উল্লেখ করছি?
কারণ! আমরা অর্থাৎ মানুষ সদাই এটা ভেবেই দুঃখিত থাকি আমাদের কষ্ট এবং জীবনযাত্রা সবচাইতে কঠিন!
আমি এক্ষেত্রে নিজেকে একেবারেই ব্যতিক্রমী বলবো না!
তবে, যখন গাছ সম্পর্কে উল্লেখিত বিষয়টি জানলাম, তখন মনে হলো, আমরা তো তবুও নিজেদের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে সক্ষম আর গাছেদের প্রাণ আছে, শুনতে পায়, অথচ তাদের কাছে আমাদের মত শব্দ কিংবা ভাষা নেই!
তবে, মাতৃগর্ভে থাকা অবস্থায় যেমন গুরুজনরা বলেন, ঈশ্বরের নাম নিতে, ভালো চিন্তা করতে, ইত্যাদি, তেমনি একটি গাছের পরিচর্চার সময় একজন ব্যাক্তির মুখ থেকে কি ধরনের ভাষা বের হচ্ছে সেটা কিন্তু গাছ শুনতে পায়!
তারা হয়তো মনের ভাষাও পড়তে পারে, জানিনা!
তবে, দেখবেন অনেকের হাতে গাছ কি সুন্দর বাঁচে, একজন যেমন সম্পার শ্বাশুড়ি, তেমনি আরো অনেকেই আছেন!
আবার অনেকের হাতে গাছ বাঁচে না! সবকিছুর পিছনেই এই পৃথিবীর সৃষ্টির একটা যোগসূত্র আছে বলে আজকাল আমি বিশ্বাস করি।
এখন এই চারা থেকে বৃক্ষে রূপান্তরিত হতে পারলেও, অনেক গাছ ফল প্রদানে অক্ষম!
মানুষের মধ্যেও অনেকেই সময়ের সাথে বয়েসে বৃদ্ধি পেলেও যেমন মানসিকতার নিরিখে ভিন্ন হয়ে থাকে।
সকলেই নিজ নিজ যাত্রা পথে সময়ের হাত ধরে এগিয়ে চলে বটে, কিন্তু আমি কর্মে বিশ্বাসী মানুষ;
তাই সাময়িক বৃদ্ধি আমার কাছে মানে রাখে না! আমি মনে করি বৃক্ষের বৃদ্ধির কারণে যদি কেউ তার ফল দ্বারা পেট ভরাতে পারে;
যদি তার ফুলের সুবাসে মৌমাছি মধু সংগ্রহ করতে পারে, রোদ, বৃষ্টির সময় যদি কেউ আশ্রয় পায়, তবেই সেই বৃক্ষের যেমন বৃদ্ধির সফলতা আছে, ঠিক তেমনি একটি মানুষের সবটা নির্ভর করে তার প্রাপ্ত সফলতা সে কিভাবে বণ্টন করছে সকলের মাঝে।

সকলের নিজস্ব লড়াই আছে, তবে সেই লড়াইয়ের সময় কে ঢাল হিসেবে ছিল আর কে পিছনে ছুরি মেরেছে সেটা আমি বেশ ভালো মনে রাখি, তবে একেবারেই শিক্ষা হিসেবে, কারণ বিচারের দায় আমার নয়!
১৪ই জুলাই এই প্ল্যাটফর্মে কাজ করবার পাঁচ বছর সম্পূর্ণ হয়ে গেছে, এরমধ্যে বহু অভিজ্ঞতা হয়েছে আর আমার মনে হয় সবটাই সৃষ্টিকর্তা আমার ভালোর জন্যই করেছেন!
কিছু মানুষ চিনেছি, এখনও চিনছি, অনেক কিছু শিখেছি, এখনও শিখছি, অনেক নিয়েছি, এখনও নিচ্ছি, সবটাই আমাকে চারা থেকে ধীরে ধীরে বৃক্ষে রূপান্তরিত হতে সহায়তা করেছে।
কাজেই, আমি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞ, যারা যা করেছে এবং করছে, সবটাই আমার অভিজ্ঞতার পাথেয়।


Curated by: @anasuleidy