ভ্রমণ: জলসিড়ি সেন্ট্রাল পার্ক (৩য় পর্ব)
হ্যালো আমার বাংলা ব্লগ পরিবার। আপনারা সবাই কেমন আছেন? আশা করছি আপনারা সকলেই অনেক ভাল আছেন। আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে মোটামুটি ভালো এবং সুস্থ রয়েছি। গত দুদিন আগে আমি আমার পরিবারকে নিয়ে জলসিড়ি সেন্ট্রাল পার্কে ঘুরতে গিয়েছিলাম এবং সেখানকার অভিজ্ঞতা গুলো আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব। গত পর্বে আমি বেশ কিছু বিষয় শেয়ার করেছি। আজ সেখান থেকেই শুরু করছি।
সেই জায়গাটিতে অনেক চমৎকার কিছু স্ট্রাকচার ছিল এবং পরিবেশটাও অনেক বেশি চমৎকার ছিল। বিশেষ করে আশেপাশের নদী গুলো ছিল দেখার মতো এবং নদীর পাশে ব্রেঞ্চ রয়েছে বসার জন্য এবং চারপাশেই সবুজের সমাহার ঠিক যেমনটা আমরা গ্রামে দেখি, মাঠের পর মাঠ। ঠিক তেমনটাই এখানে আমরা এক্সপ্লোর করতে পেরেছিলাম। থ্রিডি হল থেকে বেরিয়ে আমরা মাঠের মাঝখানে চলে আসি এবং সেখানে ব্রঞ্চে কিছুক্ষণ বসে জিড়িয়ে নেই। পরবর্তীতে আরও একটু সামনে যেতে আমরা একটা বিরাট খোলা ময়দান দেখতে পাই যেটা অনেকটা অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ঠিক যেমনটা রবীন্দ্র সরোবরের তৈরি করা হয়েছিল। চারপাশেই একটি গ্যালারি মত করেছে এবং মাঝখানে একটি স্টেজের মত করা হয়েছে। সেই জায়গাটি সত্যি অনেক বেশি চমৎকার ছিল। মাঝেমধ্যেই সেখানে ঘরোয়া আয়োজন করা হয়, ঘরোয়া কনসার্ট করা হয়।
সেই জায়গাটি এত বেশি বড় ছিল সেখানে অনায়াসে পাঁচ-ছয় হাজার মানুষ একসাথে বসে থাকতে পারবে বলে আমার মনে হয় এবং জায়গাটা এতটাই চমৎকার ছিল স্টেজের পিছনে ছিল নদী এবং নদী যেখানে থাকে সেখানে অটোমেটিকলি প্রাকৃতিক হাওয়া বইতে থাকে। যেটা দেখতে এবং অনুভব করত অনেক বেশি ভালো বলে মনে হয়। তবে সেখানকার ভিতর বেশকিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে এবং কেনাকাটার জন্য কয়েকটি শপ রয়েছে। তার মধ্যে মাটির ভেতরে একটি রেস্টুরেন্ট ছিল সেটা আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবেই অনেক বেশি ভালো লেগেছিল। রেস্টুরেন্টে তৈরি হয়েছিল ঠিক নদীর পাশে রেস্টুরেন্টে বসেই আপনি নদীর চমৎকার ভিউ গ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়াও সেখানে সব ধরনের ফুড পাওয়া যায়। যেহেতু আমার মায়ের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তাই বাহিরের খাবার থেকে আমরা বিরত থাকি।
আরেকটু সামনে এগোতেই আমরা নদীর মধ্যে একটি পোট দেখতে পারলাম। সেখানে ছোট ছোট কিছু নৌকা রয়েছে। আপনি চাইলেই সেই নৌকায় করে সেই নদী ভ্রমণ করতে পারবে এবং নদীর পানি গুলো ছিল অনেকটা পরিস্কার এবং অনেক দর্শণার্থী সেই বোটে করে সমস্ত পার্কের চারপাশের ঘুরে দেখছিল। সেই অনুভূতিটা সত্যি অসাধারণ। যদিও আমরা সেখানে উঠে নিয়ে কারণ আমাদের সময় শেষ হয়ে এসেছিল। সেখানে সাধারণত সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্তই খোলা থাকে। এরপরে জনসাধারণের জন্য সেটা বন্ধ হয়ে যায়। সেই জায়গাগুলো দেখার পরে আস্তে আস্তে আমরা আবার মেইন গেটের সামনে চলে আসতে থাকি এবং তখন অনেকটা সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিল এবং হালকা হালকা অন্ধকার নামাও শুরু করেছিল। সেই জায়গাটিতে আবার সেই ধরনের লাইটিং করা রয়েছে যা দেখতে অনেকটাই চমৎকার লাগছিল। তবে শেষের দিকে একটু চমক ছিল সেটা না হয় পরবর্তী পর্বে আপনাদের সাথে আলোচনা করে নেব। আজকের মধ্যে এখানেই শেষ করছি আপনার সুস্থ ধন্যবাদ।
VOTE @bangla.witness as witness
OR

250 SP | 500 SP | 1000 SP | 2000 SP | 5000 SP |

আমি আল সারজিল ইসলাম সিয়াম। আমি বাঙালি হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। আমি বর্তমানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিএসসি-র ছাত্র। আমি স্বতন্ত্র স্বাধীনতা সমর্থন করি। আমি বই পড়তে এবং কবিতা লিখতে পছন্দ করি। আমি নিজের মতামত প্রকাশ করার এবং অন্যের মতামত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করি। আমি অনেক ভ্রমণ পছন্দ করি। আমি আমার অতিরিক্ত সময় ভ্রমণ করি এবং নতুন মানুষের সাথে পরিচিত হতে ভালোবাসি। নতুন মানুষের সংস্কৃতি এবং তাদের জীবন চলার যে ধরন সেটি পর্যবেক্ষণ করতে ভালোবাসি। আমি সব সময় নতুন কিছু জানার চেষ্টা করে যখনই কোনো কিছু নতুন কিছু দেখতে পাই সেটার উপরে আকর্ষণটি আমার বেশি থাকে।
বিষয়: ভ্রমণ: জলসিড়ি সেন্ট্রাল পার্ক (৩য় পর্ব)
কমিউনিটি : আমার বাংলা ব্লগ
আন্তরিক ভাবে ধন্যবাদ জানাই এই কমিউনিটির সকল সদস্য কে, ধন্যবাদ......
অসাধারণ, @alsarzilsiam! জলসিঁড়ি সেন্ট্রাল পার্কের তৃতীয় পর্বের ভ্রমণ কাহিনী পড়ে মুগ্ধ হয়ে গেলাম। আপনার বর্ণনায় পার্কের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং সেখানকার পরিবেশ যেন চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। নদীর ধারের সেই রেস্টুরেন্টটির বর্ণনা শুনে লোভ সামলানো কঠিন! মায়ের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে বাইরের খাবার এড়িয়ে চলার বিষয়টি প্রশংসার যোগ্য।
অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি করা খোলা ময়দান এবং সন্ধ্যায় লাইটিংয়ের ঝলক—সব মিলিয়ে জায়গাটি সত্যিই মনোমুগ্ধকর। আপনার লেখার ভঙ্গিতে মুগ্ধ হয়েছি এবং পরবর্তী পর্বের জন্য অপেক্ষা করছি, যেখানে চমকপ্রদ কিছু ঘটনার কথা জানতে পারব। আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। চালিয়ে যান!
নদীর পাড়ে এমন বেঞ্চ থাকলে,বসে থাকতে খুবই ভালো লাগে। জলসিড়ি সেন্ট্রাল পার্ক আসলেই খুব সুন্দর। যাইহোক শেষের দিকের চমকের অপেক্ষায় রইলাম ভাই। আশা করি পরবর্তী পর্ব খুব শীঘ্রই শেয়ার করবেন আমাদের সাথে।