"যমুনার চরে এক প্রশান্ত বিকেলে সুন্দর মূহুর্ত"
অবশেষে প্রায় দুই সপ্তাহ পর ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরী ঢাকা ছেড়ে নিজের প্রিয় শহর সিরাজগঞ্জে ফেরা। ঢাকায় যতদিন থাকি, এক অদ্ভুত শূন্যতা কাজ করে। যান্ত্রিক কোলাহল, ব্যস্ত রাস্তাঘাট আর হাজারো মানুষের ভিড়ে মনটা সবসময় খুঁজে ফেরে সিরাজগঞ্জের শান্ত, পরিচিত মুখগুলো আর প্রিয় সব জায়গা। এই শহরের প্রতি আমার ভালোবাসার সবচেয়ে বড় কারণ হলো আমার বন্ধুরা, যাদের ছাড়া জীবনটা সত্যিই অসম্পূর্ণ মনে হয়। সময়ের সাথে সাথে অনেকেই হয়তো নিজেদের মতো করে ভিন্ন পথে পা বাড়িয়েছে, কিন্তু শেকড়ের মতো কিছু বন্ধু আজও রয়ে গেছে, যাদের টানে বারবার এই শহরে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে।
সিরাজগঞ্জে বাসায় ফেরার পর আমাদের একটা অলিখিত নিয়মই হয়ে গেছে। বিকেল হলেই মনটা আনচান করে ওঠে যমুনার পাড়ে যাওয়ার জন্য। এটা যেন আমাদের এক ধরনের রুটিন। হয় আমরা যমুনার ঘাটে যাই, নয়তো বিস্তীর্ণ চরে গিয়ে প্রকৃতির মাঝে নিজেদের হারিয়ে ফেলি। বেশিরভাগ সময়ই আমাদের গন্তব্য থাকে যমুনার চর।আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিকেল চারটার দিকে বাসায় পা রেখে একটুখানি বিশ্রাম নিতেই মনটা অস্থির হয়ে উঠল। কখন বন্ধুদের সাথে দেখা হবে, কখন আবার সেই চেনা প্রান্তরে পা রাখা হবে! বেশিক্ষণ আর অপেক্ষা করতে পারলাম না। পাঁচটা বাজতেই বন্ধুদের সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আমাদের প্রিয় গন্তব্য, যমুনার চরের উদ্দেশ্যে। আমাদের শহরটা যমুনা নদীর একদম কোল ঘেঁষে অবস্থিত হওয়ায় এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে পৌঁছাতে খুব বেশি সময় লাগে না, মাত্র দশ মিনিটের পথ। এই স্বল্প দূরত্বের পথটুকু পার হতেই শহুরে পরিবেশ বদলে গিয়ে এক শান্ত, স্নিগ্ধ প্রকৃতি আমাদের স্বাগত জানায়।
যমুনার চরে পা রাখার সাথে সাথেই একরাশ ভালো লাগা এসে মনকে ছুঁয়ে দেয়। যান্ত্রিক জীবনের সব ক্লান্তি, সব বিষণ্ণতা যেন এক নিমিষেই উধাও হয়ে যায়। প্রকৃতির এমন সান্নিধ্য পেলে মনটা যে কারোই চাঙ্গা হতে বাধ্য। বিস্তীর্ণ বালুচর, তার মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজের সমারোহ আর মাথার উপর সুবিশাল আকাশ সবকিছু মিলিয়ে এক অবিশ্বাস্য প্রশান্তির অনুভূতি।
তবে যমুনার চরের আকর্ষণে মাত্রা হাজার গুণ বৃদ্ধি করেছে বিশাল আকৃতির কয়েকটি উইন্ড টারবাইন। যখন এই চর বরাবর বাঁধ নির্মাণ করা হয়, তখনই এই টারবাইনগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। দিগন্তজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই টারবাইনগুলো এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাথে এক অসাধারণ মেলবন্ধন তৈরি করেছে। এগুলো যেন আধুনিকতার সাথে প্রকৃতির এক নীরব কথোপকথন। বিকেলে সূর্যের আলো যখন হেলে পড়ে, তখন এই টারবাইনগুলোর অবয়ব আকাশে এক অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে। এদের বিশাল পাখাগুলো যখন বাতাসের তালে তালে ঘুরতে থাকে, তখন মনে হয় যেন প্রকৃতি নিজেই প্রাণ পেয়েছে। নিঃসন্দেহে, এই টারবাইনগুলো যমুনার চরের সৌন্দর্যকে হাজার গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।
টারবাইনগুলোর পাশাপাশি এখানকার আরেকটি আকর্ষণ হলো সবুজে ঘেরা বন। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে কাশবন আর নানা জাতের গাছপালা এই চরকে এক ভিন্ন রূপ দিয়েছে। বাতাসে যখন কাশবনের সাদা ফুলগুলো দুলতে থাকে, তখন মনে হয় যেন প্রকৃতির বুকে সাদা ঢেউ খেলা করছে। এই সবুজ বনানী আর বালুচরের সংমিশ্রণ জায়গাটিকে আরও বেশি মায়াবী করে তুলেছে।
বন্ধুদের সাথে বালুচরে হাঁটতে হাঁটতে আর প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে কখন যে সময় গড়িয়ে যায়, তা টেরই পাওয়া যায় না। আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা এখানে বসে আড্ডা দিই, সূর্যাস্ত দেখি আর জীবনের নানা গল্পে মেতে উঠি। আজকের বিকেলটাও ঠিক তেমনই ছিল। অস্তগামী সূর্যের নরম আলোয় পুরো আকাশটা যেন কমলা আর লালের ক্যানভাসে পরিণত হয়েছিল। সেই আলোয় টারবাইনের সিলুয়েট আর দূরের গ্রামগুলো এক অপার্থিব দৃশ্য তৈরি করেছিল। এই শান্ত, স্নিগ্ধ পরিবেশে প্রিয় বন্ধুদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো জীবনের সেরা স্মৃতিগুলোর মধ্যে অন্যতম।
সত্যি বলতে, পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে সুন্দর ও নিরিবিলি একটি বিকেল কাটানোর জন্য যমুনার চরের চেয়ে ভালো জায়গা আর হয় না। এটি এমন এক প্রশান্তির জায়গা, যেখানে এলে মনের সব কালিমা মুছে যায়, নতুন করে বাঁচার প্রেরণা পাওয়া যায়।আজকের এই সুন্দর মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করে আপনাদের সাথে ভাগ করে নিলাম, যাতে আপনারাও দূর থেকে আমার শহরের এই সৌন্দর্য কিছুটা হলেও উপভোগ করতে পারেন। ছবিগুলো হয়তো সেই জীবন্ত অনুভূতির শতভাগ প্রকাশ করতে পারবে না, কিন্তু আশা করি এই অপার সৌন্দর্যের এক ঝলক আপনাদের মনকেও ছুঁয়ে যাবে।
আর হ্যাঁ, আপনাদের মধ্যে যদি কেউ কখনো সিরাজগঞ্জ শহরে আসেন অথবা যমুনার চরে ঘোরার ইচ্ছে পোষণ করেন, তাহলে অবশ্যই আমাকে জানাবেন। আমি অত্যন্ত আনন্দের সাথে আপনাদের নিয়ে আমাদের প্রাণের সিরাজগঞ্জের এই সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরিয়ে দেখাব। নিজের শহরের সৌন্দর্য অন্যকে দেখানোর মধ্যে যে আনন্দ, তা আর কিছুতেই নেই।
আজ এখানেই শেষ করছি। অন্য কোন একদিন ভিন্ন ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আপনাদের মাঝে হাজির হব। ততক্ষন পর্যন্ত আপনারা সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আল্লাহ হাফেজ।
ফোনের বিবরণ
মোবাইল | Samsung A33 (5G) |
---|---|
ধরণ | "যমুনার চরে এক প্রশান্ত বিকেল মূহুর্ত" |
ক্যমেরা মডেল | A33 (48+8+5+2) |
ক্যাপচার | @mohamad786 |
অবস্থান | সিরাজগঞ্জ- বাংলাদেশ |
X-Promotion
Upvoted! Thank you for supporting witness @jswit.
🎉 Congratulations!
Your post has been upvoted by the SteemX Team! 🚀
SteemX is a modern, user-friendly and powerful platform built for the Steem community.
🔗 Visit us: www.steemx.org
✅ Support our work — Vote for our witness: bountyking5
Daily tasks
Comments Link:-
https://x.com/mohamad786FA/status/1960774479485001773?t=BeNrDKYDpNrXZDSjrUReHQ&s=19
https://x.com/mohamad786FA/status/1960774650184786134?t=mIxasTNHCIXcI8qIlqvysw&s=19
https://x.com/mohamad786FA/status/1960774856506794232?t=DhD8_K9TOCpLNajELiKqTA&s=19
https://x.com/mohamad786FA/status/1960775009833771288?t=Muozo1Cx6hphgHo78k4R-A&s=19
https://x.com/mohamad786FA/status/1960775290856354100?t=S_tuaPUDxYuNiSFgMzjd0Q&s=19
Ss

যমুনার চরের দৃশ্যগুলি দেখেই আমি মুগ্ধ নয়নে চেয়ে আছি। প্রকৃতির সাথে এরকম মুহূর্ত কাটাতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার। সেই সাথে খুবই সুন্দর কিছু বর্ণনাও শেয়ার করেছেন। আপনার আজকের পোস্ট আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিবেশ উপভোগ করার মধ্যে একটি আলাদা ভালোলাগা কাজ করতে থাকে৷ আর আজকে আপনি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই যমুনার চরে বিকেলে সুন্দর মুহূর্ত শেয়ার করেছেন৷ একই সাথে এখানে এত চমৎকার একটি মুহূর্ত উপভোগ করার মধ্যে যে আলাদা একটি ভালোলাগা কাজ করে সেটিও আপনি খুব সুন্দরভাবে আপনার এই পোস্টের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন৷
আসলে ভাইয়া এরকম নিরিবিলে জায়গাগুলোর মধ্যে ঘুরতে গেলে এমনিতে ভালো লাগে। আর আপনার পোস্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে যমুনা চরে ঘুরতে গিয়ে ভালোই সময় কাটিয়েছেন। আর পরিবার এবং বন্ধুবান্ধব থাকলে অনেক সময় ঘুরতে অন্যরকম মজা লাগে। ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি দেখে।