বাড়িতে পুজোর দিন - ২ য় পর্ব
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি সকলে সুস্থ আছেন। গতকাল যেখানে শেষ করেছি, তারপর থেকে শুরু করছি।
একটা পুজো করতে কত যে জিনিস লাগে, তার ঠিক নেই। মা নিচ থেকে ফলগুলো একটা থালায় কেটে দিল, সেই থালা ধরে ধরে উপরে নিয়ে আসতে হলো। এইভাবে সিন্নির জন্য প্রসাদ এর বড় কাঁসার গামলা থেকে শুরু করে মিষ্টির থালা, যাবতীয় যা যা জিনিসপত্র ছিল, এমনকি আমাদের পাথরের গণেশ ঠাকুরটা, গোপাল ঠাকুর সবকিছুই এক এক করে উপরে নিয়ে আসা হচ্ছিল।আর পা ব্যথায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল।
গেটের দুই পাশে ছোট ছোট দুটো কলা গাছ, ঘট দিয়ে বসিয়ে দিতে বলেছিল ।তারও বিভিন্ন নিয়ম-কানুন রয়েছে, প্রথমবার গিয়ে ভুল করে বসিয়ে এসেছিলাম ,দ্বিতীয়বার আবার ঠিক করে বসিয়ে দিয়ে আসলাম ।ছোটখাট বিষয়ে এই নিয়মকাননে ভুল হলে আমার মা ভীষণ পরিমাণে রাগারাগি করে। এই নিয়ে মায়ের সাথে সকাল সকাল দুই একবার ঝামেলাও হয়েছে।
আসলে আমার মা সবকিছুই পারফেক্ট দেখতে চায় আর পারফেক্টভাবে করতে চায়, আর স্বাভাবিকভাবে সবার পক্ষে সেটা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর মা সেখানেই রেগে ওঠে ।ঠাকুরমশাই আসার আগে এসব যখন আমরা করছি, তখন আমার দুজন জুনিয়ার বুনু চলে আসলো। আসলে ওদের দুজনকে আমি নিমন্ত্রণ করেছিলাম। সকাল থেকে রাত অব্দি ওদের থাকার কথা ।এমনকি ওদেরকে বলেছিলাম রাতে এখানেই থেকে যেতে।
কিন্তু ওরা থাকতে পারেনি। এরমধ্যে একজন অর্থাৎ সোমদত্তা একজন হোম বেকার ।ও খুব ভালো কেক বানাতে পারে ।আমি ওর বানানো কেক এর আগে কখনো খেয়ে দেখিনি। আর কেক অর্ডারও করিনি। তাই ভেবেছিলাম ওকে একবার কেকের অর্ডার দেব। আপনাদের হয়তো জানিয়েছিলাম যে পুজোর দিনকে ঈশানের জন্মদিন ছিল, তাই আমি ওকেই নিরামিষ কেক বানাতে দিয়েছিলাম।
ও আর মানালি দুজন আমার গ্রাজুয়েশন এর সময়ের খুবই কাছের দুজন মানুষ । এখনও ওদের সাথে খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে আমার। কলেজে পড়াকালীন ওদের সাথে আমার সারা দিনটা কাটতো ।আমি এই দুটো জুনিয়রকে নিয়ে সারাদিন পড়ে থাকতাম ।ক্লাসের বন্ধুদের সাথে আমার সেরকম যোগাযোগ থাকত না। এই বাচ্চা দুটো আমাকে প্রচন্ড পরিমাণে ভালোবাসে।
এদের বাড়ি কিন্তু অনেকটা দূরে ।বর্ধমানের দিকে। বর্ধমানে পাটুলি বলে একটা জায়গা আছে সেখানে ।অতদূর থেকে সকাল সকাল শুধুমাত্র আমার জন্যই ওরা চলে এসেছিল। কেকটা দিতে এসেছিল এটাই। তারপরই তো চলে গেল। সকালবেলায় কোনরকমে ওরা খাওয়া দাওয়া করে আবার বেরিয়ে গিয়েছিল । মোটামুটি এক ঘন্টা থেকে। এইজন্য আমার ভীষণ মন খারাপ করছিল। আমি খুব চাইছিলাম ওরা সারাদিনটা আমার বাড়িতে থাকুক।
আমার ছোট্ট ভাইপো মৌসুমী বৌদিকে সাহায্য করছে
ঈশান ওর জন্মদিনে একটা bmw কেক আর একটা স্পাইডারম্যানের কেক চেয়েছিল, আর সেটা খুব সুন্দর করে বানিয়ে দিয়েছে সোম।। আমি ওকে টাকা দিচ্ছিলাম যখন,ও কিছুতেই নিচ্ছিল না।তাও আমি ওকে দিয়েছি। আমি জানি একজন হোম বেকারের কতোটা পরিশ্রম হয়।আসলে হাতে সময় থাকলে আমি নিজেই ভাইয়ের জন্য কেক তৈরি করতাম ,কিন্তু পুজোর ঝামেলার কারণে সেটা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না।
সকাল বেলায় রান্নার মাসিরা চলে এসেছিল তাড়াতাড়ি। কিন্তু বাবা ঘুম থেকে উঠতে বেশ দেরি করেছিল। পুজোর দিনও বাবার ঘুমের ঠিক ঠিকানা ছিল না। অনেক ডাকাডাকি করে উনি উঠলেন ।তারপর বাজারে গেলেন। তারপর জিনিসপত্র আনলেন ।তারপর রান্না শুরু হলো। রান্না হচ্ছিল আমাদের একদম তিনতলার ঘরে। আমার পিসিরাও সকাল সকাল চলে এসেছিল।
অনেকদিন পরে বাড়ি ভর্তি এত লোকজনকে দেখে আমার মন ভরে যাচ্ছিল। আমি সত্যি মানুষ ছাড়া থাকতে পারিনা। আমার একা থাকতে খুব বাজে লাগে। সবাই মিলে হই-হুল্লোড় করে থাকতে আমার সবথেকে বেশি ভালো লাগে। যাক গল্পে গল্পে আজও অনেক কথা শেয়ার করলাম। পরের দিন পোস্টে আরো অনেক কথা শেয়ার করব।আজ এখানেই থামলাম।
💦💥2️⃣0️⃣2️⃣5️⃣ This is a manual curation from the @tipu Curation Project
@tipu curate
Upvoted 👌 (Mana: 4/8) Get profit votes with @tipU :)