বাড়িতে পুজোর দিন -১ ম পর্ব

in Incredible Indiayesterday (edited)

নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলে সুস্থ আছেন। আজকে আমি আপনাদের সকলের সাথে শেয়ার করতে চলেছি আমার বাড়িতে বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন নারায়ণ পুজো হয়েছিল, সেই সকালের পূজার মুহূর্ত ।

20250512_080710.jpg

যেহেতু বাড়িতে একটা বড় করে পুজো দেয়া হচ্ছে, এর সাথে আমার পরিবারের আত্মীয়-স্বজন সকলে সকাল সকাল এসে উপস্থিত হতে চলেছে, স্বাভাবিকভাবেই আমি আর মা অনেক সকালবেলায় ঘুম থেকে উঠে বাড়ির কাজে লেগে গিয়েছিলাম। এছাড়াও কারখানা থেকে বাবা দু তিনজন দাদাদের নিয়ে এসেছিল সাহায্য করার জন্য। সকালবেলা থেকে মৌসুমী বৌদি ও চলে এসেছিল আমাদের বাড়ি। বলতে গেলে সকালবেলাটা একটা বিরাট ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে কেটেছে সেদিনকে।

1000296555.jpg

প্রথমত যে ব্রাহ্মণ এই পুজো করেছে, তিনি আমাদের বাৎসরিক পুজো করেন না। প্রত্যেক বছর আমাদের বাড়িতে সব রকম পুজো হয়। কোন পুজো আর বাকি থাকে না। শুধুমাত্র দুর্গাপূজো ,কালীপুজো আর জগদ্ধাত্রী পুজো বাদ দিয়ে সব রকম পুজোয় বোধ হয় বাড়িতে হতে থাকে। একটা শেষ হতে না হতে আর একটা শুরু হয়।

20250512_080733.jpg

আর এই সমস্ত পুজোগুলো বাড়িতে যে ব্রাহ্মণ করে থাকে, সেই ব্রাহ্মণকে আমরা এইবার পুজোর জন্য দায়িত্ব দিইনি। আসলে গৃহপ্রবেশ এর মতন করে পূজো হচ্ছে পুজোটা একটু অন্যভাবেই বাবা করতে চাইছিল। এ কারণে একটু ভালো পুরোহিত আনা হয়েছিল। ইনি আবার একজন বড় জ্যোতিষী।

20250512_084723.jpg

এনার সব পরিচয়ের আগের যে পরিচয়টা, সেটা হল আমার বাবার সাথে এনার পরিচয় আমি জন্ম হওয়ার আগে থেকে। তাই সেই সূত্রে এখনো পর্যন্ত আমাদের পরিবারের সাথে এই পুরোহিতের এক ভালো সম্পর্ক রয়েছে। নারায়ণ পূজো বাবা চাইছিল উনার হাত ধরেই হোক। এ কারণে ওনাকে ধুবুলিয়া থেকে আনার ব্যবস্থা ও বাবা করে দিয়েছিল। সকাল সকাল আমাদের গাড়িটা পাঠিয়ে কৃষ্ণনগর থেকে ধুবুলিয়া গিয়ে ওনাকে নিয়ে আসা হয়।

IMG-20250512-WA0004.jpeg

ওনার আসার আগে থেকেই বাড়িতে পুজোর জোগাড় শুরু হয়ে গিয়েছিল। এবার বিষয়টা হল পরিশ্রমটা কোথায় বেশি হচ্ছে আপনারাই বুঝুন।। আমাদের ঠাকুরঘর আসলে নিচে। ঠাকুর ঘর ঠিকভাবে এখনো তৈরি করা হয়নি, তবে ঠাকুমা যেখানে পূজো করতেন অর্থাৎ যে ঘরে পূজা করতেন সেই ঘরেই আমার মাও পুজো করে।।

20250828_224236.jpg

বাড়ির কাজ এখনো বাকি আছে । আমাদের সকলের ইচ্ছে আমাদের নিচের তলাতেই ঠাকুর ঘর সুন্দর করে করা হবে। কারণ বয়স বাড়লে মা-বাবার পক্ষে সম্ভব না বারবার উপরে এসে পুজো করা। আর নিচে যেহেতু সবকিছু, নিচ থেকে উপরে বারবার নিয়ে আসা একটা বড়ই সমস্যার বিষয়।

20250512_110343.jpg

সেদিনকে সমস্যাটা এখানেই দাঁড়িয়েছিল। সমস্ত প্রকার জিনিস নিচ থেকে বয়ে বয়ে উপরে আনতে হচ্ছিল। যেহেতু উপরের ঘরে পুজো হচ্ছে। আমার ঘরে বিছানা পাতা ছিল, আর ঈশানের অর্থাৎ আমার ভাইয়ের ঘরটা ফাঁকা রাখা হয়েছিল । তাই ওর ঘরেই পূজো করা হয়েছে। পুজো না হওয়া অবদি আমরা উপরে রাত্রি বাস করতে পারিনি। পুজোর পর থেকেই ওপরে থাকতে শুরু করেছি।

20250512_110059.jpg

পুজোর বাসন থেকে শুরু করে, পুজোর জন্য আনা যাবতীয় সমস্ত কিছু নিচ থেকে উপরে টেনে টেনে তোলা একটা বড় পরিশ্রমের বিষয়। এই পরিশ্রম সকাল থেকে আমি ,মা আর মৌসুমী বৌদি ক্রমাগত করে যাচ্ছিলাম। ভীষণ পরিমাণে পা যন্ত্রণা হ্চ্ছিল একটা সময় পর। এক-দেড় কিলোমিটার হাঁটা, আর সিঁড়ি দিয়ে বারবার ওঠানামা করার মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। দ্বিতীয় টায় সব থেকে বেশি পরিশ্রম হয়। আর পায়ে চাপ পড়ে বেশি।

20250512_110328.jpg

যাইহোক কিছু করার ছিল না সেদিন, পুজোর আসন থেকে শুরু করে, ঘরের চারিদিক সাজানো সবকিছুই বাড়ির লোকজনকে করতে হয়েছে স্বাভাবিকভাবেই। পুরোহিত আসার আগে আমি বসে বসে সুন্দর সুন্দর করে আলপনাও দিয়েছি চারিদিকে। ঠাকুর মশাই আসার আগে সমস্ত কিছু গুছিয়ে রেখেছিলাম।

সকালের কিছুটা মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পেরে ভালো লাগলো।। পরবর্তী পোস্টে বাকি আরো শেয়ার করব। আজকে এখানেই শেষ করছি।

Sort:  
Loading...
Loading...

TEAM - 02


Congratulations!! Your post has been upvoted through steemcurator04. We encourage you to publish creative and high-quality content, giving you a chance to receive valuable upvotes.
Curated by: @anasuleidy