গণেশ চতুর্থীর পূজা
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলে ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজ ভাদ্র মাসের ১০ তারিখ। আর ইংরেজি ২৭ এ আগস্ট। বাঙ্গালীদের বারো-মাসে তেরো পার্বণ লেগেই রয়েছে। আর কিছুদিন পরেই বাঙালি শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। আকাশে বাতাসে যেন শরতের ছোঁয়া লেগে রয়েছে ।বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে মা দুর্গা আসতে আর বেশি দিন দেরি নেই। এরই মধ্যে আজকে ছিল গণেশ চতুর্থী। সকলকে জানাই গণেশ চতুর্থীর শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। প্রত্যেক বাঙালিরা গণেশ পূজাকে ঘিরেও অনেক মাতামাতি করে। যতদিন যাচ্ছে মানুষের পুজো পার্বনের প্রতি ভক্তি বেড়েই চলেছে।বাঙ্গালীদের বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে গণেশ পূজা হল অন্যতম। গণেশ চতুর্থীর দিন গণেশের জন্মদিন হিসাবে ধরা হয়। তবে এই পূজা নিয়ে মহারাষ্ট্রে বেশি মাতামাতি হয়। তবে আমাদের উৎসবের শহর কৃষ্ণনগরে ও শুরু হয়ে গেছে গণেশ পূজো নিয়ে মাতামাতি। আমাদের কৃষ্ণনগরে প্রায় প্রত্যেকটি পুজো খুব ধুমধাম সহকারে লেগেই থাকে। যেখানে ব্যবসা বাণিজ্য হয় সেই সব জায়গাতেই গনেশ পূজা করা হয়।
প্রত্যেক বছরের মত এ বছরে ও ঈশাদের বাড়িতে গণেশ চতুর্থীর পূজা ছিল। আমাকে আগে থেকে বলে রেখেছিল গণেশ পূজোয় যাবার জন্য ।সকালবেলায় ঘুম থেকে ওঠার পর বেশ কয়েকবার ফোন করেছিল। যাতে তাড়াতাড়ি ওদের বাড়িতে পূজা দেখতে যাই। কিন্তু এ বছরে খুব ধুমধাম সহকারে পূজা না করলেও খুব অল্পের মধ্যে দিয়ে সুন্দরভাবে পূজার আয়োজন করেছিল। ওদের বাড়িতে ছোট্ট গনেশের মূর্তি রয়েছে। আমাদের বাড়িতে শাশুড়ি মা খুব সকাল সকাল পূজা কমপ্লিট করে ফেলেছিল ।আমাদের ছোট্ট গণেশের ছবি রয়েছে। সেটাকে শাশুড়ি মা নিজে প্রত্যেক বছর পুজো করে। এছাড়াও একটা সুন্দর গণেশের মূর্তি ছিল। কোন এক বছরে পরিষ্কার করতে গিয়ে মূর্তিটি ভেঙে যায়। গণেশের মূর্তিটি আমার বরের ভীষণ পছন্দের ছিল।
যাইহোক ইচ্ছা আছে আবারো পরে গণেশের মূর্তি কিনে পূজা শুরু করব। সকাল 11 টা নাগাদ চলে গিয়েছিলাম ঈশাদের বাড়িতে পূজা দেখার জন্য। তবে এ বছরে অঞ্জলি দেবার জন্য কোন প্রস্তুতি নিয়নি। তাই সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই সকালের খাবারটা খেয়ে নিয়েছিলাম ।আমি গিয়ে দেখি ঠাকুর মশাই সদ্য পুজোয় বসেছে। আর এদিকে ঈশা ঘরে রেডি হচ্ছে। আমি গিয়ে ওকে একটু হেল্প করলাম ও আরো তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নিল। সকলে মিলে পূজোতে বসে পূজো দেখছিলাম। গনেশের মূর্তিটাকে স্নান করানো থেকে সমস্ত কিছুই দেখলাম। গনেশের মূর্তিটি পাথরের তৈরি দেখতে অপূর্ব। স্নান করানোর পর ঠাকুরমশাই সমস্ত কিছু পালন করে আবার মূর্তিটাকে সিংহাসনে বসিয়ে দিয়েছিল।
এরপর সমস্ত নিয়ম অনুযায়ী পূজা শুরু করেছিল। গণেশ ঠাকুরকে দুর্বার মালা পরানো হয় ।এছাড়াও যা যা নিয়ম কানুন সবই পালন করছিল। এরপর ওদের বাড়ির সকলে অঞ্জলি দিল ।ঠাকুর মশাই ও সন্ধ্যা আরতি করে পুজো সম্পূর্ণ করল। কারণ আজকের দিনে ঠাকুর মশাইদের অনেক জায়গাতে পূজা ধরা থাকে ।তাই পুজো হুটো পাটা করেই শেষ করে ফেলেছিল। যাই হোক পূজা শেষ হওয়ার পর সকলে মিলে প্রসাদ খেয়ে আবারো যে যার বাড়িতে চলে এসেছিলাম ।ইচ্ছা আছে কৃষ্ণনগরে প্রচুর গণেশ পূজা হয়েছে। রাতের বেলায় দেখতে বের হবো। সবটাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব।
আজ এই পর্যন্তই। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।